আয়ারল্যান্ড থেকে নিউজিল্যান্ড, রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে টাইগারদের জয়

১৮২ রান তাড়া করতে নেমে ১১তম ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৭ রান। তখন ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা শঙ্কায় টাইগাররা। তবে সেই অনিশ্চয়তা কাটাতে ত্রাণকর্তা হয়ে হাজির হলেন তাওহিদ হৃদয়। তার সাথে সমানে তাল মেলালেন পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন। এই তিনজনের কাঁধে চড়ে টি-টোয়েন্টিতে টাইগাররা রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে আজ নিউজিল্যান্ডকে হারাল। গত নভেম্বরে এই মাঠেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রান তাড়া করা জয়টি ছিল আগের রেকর্ড।
সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে লিটনরা। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেটে ১৮২ রানের জবাবে ১৮ ওভারেই ৪ উইকেটে ১৮৩ রান তুলে নেয় লিটন দাসের দল।
এক পর্যায়ে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৫৯ বলে ১০৬ রানের। ফিফটি হাঁকানো হৃদয়ের সঙ্গে পারভেজ ও শামীমের ব্যাটিং নৈপুণ্য ১২ বল হাতে রেখেই সে লক্ষ্য পূরণ করে।
পাঁচ নম্বরে নামা হৃদয় ২৭ বলে অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে। দুটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান হৃদয়। তার সাথে ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়া পারভেজ একটি চার ও দুটি ছক্কায় খেলেন ১৪ বলে ২৮ রানের ইনিংস। সাতে নামা শামীম মাঠ ছাড়েন ৩১ রানে অপরাজিত থেকে। মাত্র ১৩ বল খেলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় হৃদয়ের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ২১ বলে ৪৯ রান।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই বাউন্ডারিতে ম্যাচ শুরু করে নিউজিল্যান্ড। শরিফুল ইসলামের প্রথম ওভারে ক্লার্কের দুটি বাউন্ডারির পর দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশ পায় ব্রেক থ্রু। বিপজ্জনক টিম রবিনসনকে দুর্দান্ত থ্রোয়ে রান আউট করেন তাওহিদ হৃদয়। তিনে নামা ক্লেভারের সাথে আগ্রাসী ছিলেন ক্লার্কও। পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে ৬১। জুটির পঞ্চাশ আসে ২৮ বলে।
ক্লার্ককে ১২ রানে রান আউট করার সুযোগ হাতছাড়া করেন পারভেজ হোসেন ইমন। ১৮ রানে তাকে এলবিডব্লিউ দিতে পারতেন আম্পায়ার, ৪৪ রানে রিশাদের বলে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন সাইফ। ক্যারিয়ারের প্রথম দু্ই টি-টোয়েন্টিতে ১১ রান করা ব্যাটসম্যান প্রথম ফিফটির দেখা পান ৩৪ বলে। আরেকপ্রান্তে ক্লেভার আরও আগেই ফিফটি করে ফেলেন ২৭ বলে। দ্বাদশ টি-টোয়েন্টিতে তার দ্বিতীয় ফিফটি এটি।
৫০ বলে ৮৮ রানের জুটি থামে ক্লেভারের বিদায়ে। রিশাদকে টানা দুটি বাউন্ডারি মেরে ফিফটি করে পরের বলেই বাজে তার বিদায় ঘণ্টা। রিশাদ পরের ওভারে ফিরিয়ে দেন ক্লার্ককেও। চোট কাটিয়ে ফেরা তানজিম হাসানের বলে বেভন জ্যাকবসের ক্যাচ নেন রিশাদ। ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ডিন ফক্সক্রফটকে বোল্ড করেন শেখ মেহেদি হাসান।
কিউইদের রানের গতিও কমে যায় ওই সময়। ১০ ওভারে ১০০ করা দল পরের ৫ ওভারে তুলতে পারে কেবল ৩০ রান। মেঘলা আকাশের কারণে ফ্লাড লাইটে চলছিল খেলা। ষোড়শ ওভারে ফ্লাড লাইটের সমস্যায় খেলা বন্ধ থাকে বেশ কিছুক্ষণ। রানের থমকে আসা গতিতে দম দেন অধিনায়ক নিক কেলি (২৭ বলে ৩৯)। শেষ দিক ক্যামিও খেলে দলকে ১৮০ পার করান জশ ক্লার্কসন (১৪ বলে ২৭)।

















