চাঁদা না দেওয়ায় যাত্রাবাড়ীতে লেগুনা চালককে পিটিয়ে হত্যা!

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড রুটে লেগুনা চালানোকে কেন্দ্র করে খায়রুল (৩৫) নামে এক চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ত সংলগ্ন সুফিয়া গার্মেন্টের পাশে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, অন্যদিকে পুলিশ বলছে যাত্রী উঠানো নিয়ে বিবাদের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও চালকদের ভাষ্যমতে, এই রুটে চলাচলকারী শতাধিক লেগুনা থেকে নিয়মিত মাসোহারা ও চাঁদা আদায় করা হয়। নারায়ণগঞ্জ ও ওয়ারী ট্রাফিক পুলিশ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ী থানা এবং লাইনম্যানদের নামে প্রতি গাড়ি থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই চাঁদাবাজির আধিপত্য নিয়েই স্থানীয় গ্রুপগুলোর মধ্যে বিরোধ চলছিল।
তবে মামলার এজাহার অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে চিটাগাং রোড স্ট্যান্ডে সিরিয়াল ছাড়া যাত্রী উঠানো নিয়ে খায়রুলের সাথে হৃদয় নামে অন্য এক চালকের বাকবিতণ্ডা হয়। হৃদয় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাত্রাবাড়ী চলে যায়। পরে খায়রুল গাড়ি নিয়ে যাত্রাবাড়ী পৌঁছালে হৃদয় ও তার সহযোগীরা মিলে তাকে বেধড়ক মারধর করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত খায়রুলের বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুর থানায়। তিনি পরিবার নিয়ে মাতুয়াইল এলাকায় থাকতেন। মাত্র দেড় মাস আগে জীবিকার তাগিদে তিনি লেগুনা চালানো শুরু করেছিলেন। তার ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোয়াল্লেম সর্দার বাদী হয়ে ৮ জন নামীয় এবং আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
সহকর্মী হত্যার বিচার ও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই রুটে লেগুনা চলাচল বন্ধ রাখেন বিক্ষুব্ধ চালকরা।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু জানান, যাত্রী উঠানো নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে এর পেছনে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো গভীর কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

















