পুলিশ হত্যায় অভিযুক্ত মেহেদী দিল্লি বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার, বাংলাদেশে ফেরত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আহমেদ রাজা হাসান মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ভারতের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসান মেহেদী আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে ভারত হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিল্লির ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হাসান মেহেদী হবিগঞ্জের বানিয়াচং এলাকার বাসিন্দা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দিন বানিয়াচংয়ে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেদন অনুসারে, মিছিলটি থানার কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ গুলি চালায়, যাতে ছয়জন ছাত্র নিহত হন।
এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করে অগ্নিসংযোগ করে। সে সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ভেতরে আটকা পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, হাসান মেহেদী ও তার সহযোগীরা সন্তোষ চৌধুরীকে পিটিয়ে ও জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেন। পরবর্তীতে তার মরদেহ একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে মেহেদীর একটি ভিডিও সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।
নিহত সন্তোষ চৌধুরী ছিলেন তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। আন্দোলনের কয়েক মাস আগেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তার নির্মম মৃত্যুর মাত্র তিন মাস পর তার স্ত্রী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতক এই শিশুটি তার বাবাকে দেখার সুযোগ পায়নি, যা স্থানীয়ভাবে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
বর্তমানে হাসান মেহেদী বাংলাদেশ পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই মামলার বিচার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও সচেতন মহল।

















