ছোট করে দাড়ি ছেঁটে শাস্তি পাচ্ছেন আফগান নাপিতরা

তালেবান সরকারের আইন অমান্য করে শাস্তি পাচ্ছেন দেশটির নাপিতরা। আফগানদের দাড়ি বেশি ছোট করে ছাঁটার অভিযোগে তাদের শাস্তির মুখোমুখি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দেশটির নীতিনৈতিকতা–বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শহরগুলোতে টহল দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তালেবানদের নীতিনৈতিকতা–বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, হাতের মুঠোর চেয়ে লম্বা দাড়ি রাখা ‘বাধ্যতামূলক’। আগের নির্দেশনার তুলনায় এবারের নির্দেশনায় ‘দ্বিগুণ’ বড় দাড়ি রাখার বিধান চালু হয়েছে।
ওই দপ্তরের মন্ত্রী খালিদ হানাফি বলেন, ‘সবার বেশভূষা যাতে শরিয়াহ আইন অনুযায়ী হয়, সেটা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকারের। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সর্বক্ষেত্রে ইসলামিক ব্যবস্থা প্রচলন করতে বাধ্য।’
জাতিসংঘের প্রতিবেদন মতে, মন্ত্রণালয়ের আইন ভঙ্গের অভিযোগে গত বছর কুনার প্রদেশে তিন নাপিতকে তিন থেকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আফগান নাপিত এএফপিকে বলেছেন, তাদের মধ্যে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গজনী এলাকার ৩০ বছর বয়সী এক নাপিত আছেন। তিনি বলেছেন, তাকে তিন রাত আটকে রাখে হয়েছিল। নাপিত দাবি করেন, তার সেলুনের কর্মী এক কাস্টোমারের চুল ‘পাশ্চাত্যের স্টাইলে’ কেটেছিল- এই তথ্য পেয়ে কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাকে শুরুতে একটি ঠাণ্ডা হলঘরে আটকে রাখে। মুক্তির দাবি জানানোর পর তারা আমাকে একটি ঠাণ্ডা শিপিং কন্টেইনারে স্থানান্তর করে।’
পরে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি কাজ করছেন, তবে টহলকর্মীদের দেখলে লুকিয়ে থাকেন।
ওই নাপিত বলেন, ‘কেউ তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে না বা তাদের সাথে তর্ক করতে পারে না। সবাই তাদেরকে ভয় পায়।’
তিনি আরও বলেছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাপিত ও কাস্টোমার, উভয়কেই আটক করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাস্টোমারকে ছেড়ে দিলেও নাপিতকে আটক রাখা হয়।
তালেবান সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা
নৈতিকতা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তালেবান ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকেও কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নভেম্বরে মসজিদের ইমামদের কাছে আট পৃষ্ঠার নির্দেশনা পাঠানো হয়।
সেখানে দাড়ি কেটে ফেলাকে ‘বড় ধরনের অপরাধ’ বলে প্রচার করতে ইমামদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, নামাজের খুতবার সময়ও বিষয়টি উল্লেখ করতে।
ধর্মমন্ত্রী যুক্তি- দাড়ি কেটে পুরুষরা ‘নারীদের মতো বেশ ধারণ’ করার চেষ্টা করছেন। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। তালেবান শাসনে আফগান নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনুমতি নেই।
কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জানান, ‘প্রভাষকরা আমাদেরকে হুশিয়ার করেছেন। আমাদের বেশভূষা যদি ইসলামসম্মত না হয়, তাহলে তারা আমাদের পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেবেন।’
ইসলামিক বেশভূষা বলতে মূলত মুখে দাড়ি ও মাথা ঢেকে রাখার বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া হচ্ছে বলে ওই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন।
রাজধানী কাবুলের ২৫ বছর বয়সী এক নাপিত দুঃখ করে বলেন, ‘তরুণরা ছোট করে দাড়ি কামিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু এ বিষয়টিতে অনেক বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছে। নাপিতরা ব্যক্তি পর্যায়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করেন। চুল-দাড়ি কত বড় বা ছোট হবে, সেটা একেকজন মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে কারো নাক গলানো উচিৎ নয়।’
তবে নৈতিকতা মন্ত্রী হানাফি এই যুক্তি উড়িয়ে দিচ্ছেন। বলছেন, ‘শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দাড়ি’ রাখার বিষয়ে কোনো আপত্তি শোনা হবে না। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ একেবারেই প্রাসঙ্গিক নয়।

















