ইসরায়েলি পর্যটককে ধর্ষণ ও হত্যা: ভারতে ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে এক চাঞ্চল্যকর মামলার রায়ে তিন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন স্থানীয় একটি আদালত। গত বছর ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হাম্পির কাছে এক ইসরায়েলি নারী পর্যটক এবং এক স্থানীয় নারীকে ধর্ষণসহ এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে তাদের এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়। সোমবার জেলা আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন, যা ভারতের পর্যটন ও নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আদালতের নথিপত্র এবং ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন পাঁচজনের একটি পর্যটক দলের ওপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। ওই দলে একজন মার্কিন নাগরিক ও দুজন ইসরায়েলি পর্যটক ছিলেন। হামলাকারীরা ইসরায়েলি ওই নারী এবং তার হোমস্টের মালিক নারীকে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। এসময় তাদের সাথে থাকা তিন পুরুষ সঙ্গীকে পার্শ্ববর্তী একটি খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন ওড়িশা রাজ্যের বাসিন্দা এক সঙ্গীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রসিকিউশন এই ঘটনাকে অত্যন্ত নৃশংস ও পূর্বপরিকল্পিত হিসেবে আদালতে তুলে ধরে।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন যে, আসামিদের দ্বারা সংঘটিত এই অপরাধটি “বিরলতম ঘটনার মধ্যে বিরল” (Rarest of Rare), যা সমাজের জন্য চরম অবমাননাকর। হত্যা মামলার জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে ভারতীয় আইন অনুযায়ী, এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য কর্ণাটক হাইকোর্টের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে এবং আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
বিশ্বের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হাম্পির মতো স্থানে এমন অপরাধ ভারতের নারী নিরাপত্তা ও পর্যটন ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। ২০২৩ সালে দেশটিতে প্রায় ৩০ হাজার ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই কঠোর রায় অপরাধীদের কাছে একটি কড়া বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য যে, ভারতে সর্বশেষ ২০২০ সালে নির্ভয়া কাণ্ডের অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল।

















