ক্ষুধার্ত বাঘের মতো জিম্বাবুয়ের ফিরে আসা

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সোনালী যুগের গল্প নিশ্চয় মনে আছে ক্রীড়ামোদীদের। আফ্রিকার দেশটি একটা সময় বড় দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতো মাঠে। মাঠের খেলায় সহজেই কাউকে ছেড়ে দেয়ার মনোভাব সেসময় দেখা যায়নি দলটির খেলোয়াড়দের মধ্যে। সেই লড়াকু জিম্বাবুয়েকে অনেকদিন দেখা যায়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।
তবে এবার যেন ক্ষুধার্ত বাঘের মতোই ফিরল জিম্বাবুয়ে। শুক্রবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৬৯ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানেই থেমে যায় অজিরা।
এদিন মাঠে নামার আগেই বড় ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। চোটের কারণে ছিটকে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার ব্রেন্ডন টেইলর। তাকে ছাড়াই মাঠে নামলেও দারুণ খেলেছে দলটি। ব্রায়ান বেনেটের নেতৃত্বে ব্যাট হাতে ভালো পারফর্ম করেন ব্যাটাররা। এরপর ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্সের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভর করেই অজিদের হারিয়েছে দলটি।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ৫৬ বলে অপরাজিত ৬৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। এরমধ্যে সাতবার বল পাঠিয়েছেন মাঠের বাইরে। এটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটারের দশম অর্ধশতক।

শুরুতেই বেনেট ৬১ রানের জুটি গড়েন তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে নিয়ে। দ্বিতীয় উইকেটে রায়ান বার্লের সঙ্গে ৭০ রানের আরেকটি জুটি হয়। দুই জুটিতে ভর করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হয় এদিন।
তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা লাগে অজি শিবিরে। নতুন বলে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স। তাদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ২৯ রানে হারায় চার উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। পুরো ম্যাচজুড়েই দ্বিতীয় র্যাঙ্কিংয়ে থাকা দলটিকে নাজেহাল করে ছেড়েছে ১১তম র্যাঙ্কিংয়ের জিম্বাবুয়ে। ম্যাচে মুজারাবানি ৪ উইকেট নেন মাত্র ১৭ রান খরচ করে।
অজিদের ইনিংসে আশা জাগিয়েছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাট রেনশ। পঞ্চম উইকেটে তারা যোগ করেন ৭৭ রান। কিন্তু ম্যাক্সওয়েলকে ৩১ রানে ফেরান লেগ স্পিনার বার্ল। এরপর ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
আজকের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলে ছিলেন না অধিনায়ক মিচেল মার্শ। আগেই ছিটকে গেছেন পেস তারকা প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড। ম্যাচ চলাকালে হাতে আঘাত পান অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস, রিটার্ন ক্যাচ নিতে গিয়ে বাঁ হাতে বল লাগলে ব্যথায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। পরে ব্যাট করতে নেমে করেন মাত্র ৬ রান।
দলে ফেরেন পাওয়ার হিটার টিম ডেভিড, তবে প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হয়নি। বিগ ব্যাশ লিগে পাওয়া হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে প্রথম ম্যাচেই তিনি দুই বলে শূন্য রানে ফেরেন।
গ্রুপ পর্বে এর আগে ওমানকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে, আর আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে সামনে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা ও ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ বাকি অস্ট্রেলিয়ার। আরেকটি হার হলে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিতে হতে পারে গ্রুপ পর্ব থেকেই।
এর আগে দুই দলের প্রথম মোকাবেলা হয়েছিল ২০০৭ সালের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেই আসরেও অজিদের হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে।

















