জন্মের আগেই বার্থ সার্টিফিকেট পেলেন ভোটার

জন্মের আগেই কি জন্মের শংসাপত্র পাওয়া সম্ভব? অন্তত নির্বাচন কমিশনের হাতে আসা নথি সেই প্রশ্নই তুলে দিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) জন্য নথি যাচাই করতে গিয়ে বরাহনগরের এক ভোটারের ক্ষেত্রে এই অদ্ভুত গরমিল খুঁজে পেয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা। ওই ভোটারের জমা দেওয়া শংসাপত্রে দেখা যাচ্ছে, তাঁর জন্মের তারিখ ১৯৯৩ সালের ৬ মার্চ। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, শংসাপত্রটি নথিভুক্ত করার তারিখ হিসেবে লেখা রয়েছে ১৯৯৩ সালের ৪ মার্চ। অর্থাৎ জন্মের দু’দিন আগেই তাঁর বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে গিয়েছে! এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই অসঙ্গতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই এসআইআর-এর শুনানি পর্ব শেষ হলেও এখনও দু-একটি জেলার কিছু বিধানসভা অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই কাজের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজ্যের সমস্ত এলাকায় শুনানি পর্ব শেষ করতে হবে এবং আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে অধিকাংশ জেলাতেই শুনানিতে পাওয়া নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। নথিপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে আধিকারিকরা দেখছেন, শুধুমাত্র বরাহনগরের এই মামলাই নয়, আরও অনেক ধরনের ত্রুটি ধরা পড়ছে। অনেকে এনুমারেশন ফর্মে জন্মের তারিখের জায়গাটি ফাঁকা রেখেছেন, আবার অনেক জায়গায় একই এলাকার বহু মানুষের জন্ম তারিখ হুবহু এক দেখা যাচ্ছে। যদিও কমিশন একই এলাকায় সবার জন্ম তারিখ এক হওয়াকে সরাসরি ভুল বা গরমিল হিসেবে দেখছে না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের তথ্যের কোনো যোগসূত্র নেই, তাঁদের ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় রাখা হয়েছিল। তথ্যগত অসঙ্গতি থাকায় তাঁদেরও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, নামের বানানে সামান্য ভুলের কারণে যেন কোনো যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়। নথি যাচাইয়ের সময় আধিকারিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সমস্ত অসঙ্গতি দূর করে একটি নিখুঁত তালিকা তৈরি করা।
















