৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনবে ভারত

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া নতুন ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস প্রকাশিত এক বিস্তারিত তথ্যপত্রে (ফ্যাক্টশিট) এই বিশাল অংকের কেনাকাটার পরিকল্পনা নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত মার্কিন জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষি খাতের রপ্তানি বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, ভারত মূলত মার্কিন জ্বালানি পণ্য (এলএনজি ও অপরিশোধিত তেল), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জাম, কয়লা এবং কৃষি পণ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে। এর মধ্যে বোয়িংয়ের মতো বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন এয়ারক্রাফট কেনা এবং ডেটা সেন্টারের জন্য উন্নত গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU) আমদানির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই লক্ষ্যমাত্রাকে ‘বাস্তবসম্মত’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য এই পরিমাণ আমদানি কোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে না।
এই বিশাল বিনিয়োগের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় আমদানির ওপর যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ ছিল, তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন বাজারে শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তবে এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্কের বিচ্ছেদ। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে, ভারত ভবিষ্যতে রাশিয়ার কাছ থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেই এই শুল্ক সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী হবে। এছাড়াও, ভারত তার অভ্যন্তরীণ বাজারে মার্কিন শিল্প পণ্যের ওপর থেকে বিদ্যমান বিভিন্ন অশুল্ক বাধা (Non-tariff barriers) সরাতেও রাজি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশকের বাণিজ্য সংঘাতের অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন অর্থনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে।

















