ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে নজর: রেল কোচ ও ওয়াগন কিনতে চায় বাংলাদেশ

পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য সরবরাহকারীর তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে যাত্রীবাহী কোচ এবং মালবাহী ওয়াগন পেতে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। জানা গেছে, গুণগত মান ঠিক রেখে পাকিস্তান রেলওয়ে যে দাম প্রস্তাব করেছে, তা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মূলত এই ‘কস্ট-অ্যাডভান্টেজ’ বা আর্থিক সাশ্রয়ের কারণেই ঢাকা ইসলামাবাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
এই ক্রয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের দুই সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করেছেন। তারা লাহোরের ঐতিহাসিক মুঘলপুরা লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ এবং ইসলামাবাদের রেলওয়ে ক্যারেজ ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কনস্যুলার বিষয়ক সচিব ফরহাদ ইসলাম। সফরে তাদের সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহম্মদ ইকবাল হোসেন খান। পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাস এই সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, তারা শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলোতেও রেল সরঞ্জাম সরবরাহ করছেন।
হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের রেল খাতে ভারতের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বর্তমানে ভারতের ঋণে (Line of Credit) প্রায় সাতটি বড় রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে: খুলনা-মোংলা ও আখাউড়া-আগরতলা প্রকল্প: যেগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনার অপেক্ষায়। ঢাকা-টঙ্গী ও কুলাউড়া-শাহবাজপুর লাইন: যেগুলোর নির্মাণকাজ যথাক্রমে ৩৮% ও ৫১% সম্পন্ন হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের ঋণে চলা এসব প্রকল্পের গতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, আশির দশকের পর এই প্রথম বড় কোনো রেল চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান বাংলাদেশে তাদের অবস্থান ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে।
কূটনীতিকদের মতে, ১৯৭১-এর তিক্ত স্মৃতি সরিয়ে রেখে বর্তমান প্রশাসন পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে চাইছে। ইতিপূর্বে সরাসরি সমুদ্রপথে করাচি-চট্টগ্রাম বাণিজ্য শুরু হওয়া এবং এখন রেল খাতের এই সহযোগিতা—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে আসার একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে একে।

















