শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারেন: তারেক রহমান

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, জনগণের গ্রহণযোগ্যতা থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে যুক্ত হতে কোনো বাধা নেই। রয়টার্সকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন: “কাউকে যদি দেশের মানুষ গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তবে যে কারো রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। শেষ পর্যন্ত জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কে রাজনীতি করবে আর কে করবে না।”
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সব পক্ষকে নিয়ে ‘ঐক্য সরকার’ গঠনের ধারণাটি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে সরকার গঠন করলে সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি যদি আমার প্রতিপক্ষের সাথেই সরকার গঠন করি, তবে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে কে?”
নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে: ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকি ৮টি আসন জোটসঙ্গীদের জন্য ছেড়েছে।
তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে না পড়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তাঁর মূল লক্ষ্যগুলো হলো: তরুণদের জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে ব্যাপক হারে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করা। দেশের স্বার্থ বজায় রেখে যেকোনো দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে আওয়ামী লীগ বর্তমানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আগামী সপ্তাহের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

















