এপস্টেইনের অনেক নথি অপ্রকাশিত, কিন্তু থামাতে বলছেন ট্রাম্প

এপস্টেইনের শিকার লিসা ফিলিপস বলেছেন, ‘আমরা বিচার বিভাগের কাজে সন্তুষ্ট নই। অনেক নথি এখনও প্রকাশিত হয়নি, সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। অনেক শিকারীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা লড়াই থামাব না।’
কিন্তু গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের নারী পাচারের তদন্ত সংক্রান্ত কোটি কোটি নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠিত মুখ আজ কেলেঙ্কোরির ভয়ে। এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত এসব বিতর্কের অবসান চান।
গতবছর নভেম্বরে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের জন্য বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষ। চাপের মুখে ট্রাম্পও এসব নথি প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে পড়েন তালিকায়। একের পর এক উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশ করে এই মার্কিন বিচার বিভাগ।
নথিতে উঠে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, টেসলার মালিক ইলন মাস্ক, এমনকি মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম।
বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা-বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান, কংগ্রেসের নির্দেশে নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া এপস্টেইন ফাইলের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে। তবে, নতুন কোনো মামলা করার ভিত্তি নেই বলে মনে করেন তিনি।
জানা গেছে, বিচার বিভাগের পর্যালোচনা শেষ। কংগ্রেসের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস নিজস্ব তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন কংগ্রেসের তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু এ নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘এপস্টেইন বিতর্ক ছাড়াও দেশকে অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দেয়া উচিত। ট্রাম্পের ব্যাপারে তেমন কিছু বেরও হয়নি।’
ফাইলগুলোতে ট্রাম্পের নাম ৬ হাজারেরও বেশিবার আসলেও এমনটা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন তিনি।
এপস্টেইন ও ট্রাম্প উভয়েই নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়েস্ট পাম বিচে বাস করতেন। বিভিন্ন সূত্রে দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। তবে ট্রাম্পের মতে, ২০০০ সালের দিকে তাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়।
২০১১ সালে সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে পাঠানো জেফরি এপস্টেইনের এক ইমেইল থেকে এটা স্পষ্ট যে ট্রাম্প এক ভূক্তভোগী নারীর সঙ্গে এপস্টেইনের বাড়িতে সময় কাটিয়েছিলেন। এছাড়া ফাইলগুলোতে ২০১৬ সালে এফবিআই-কে দেয়া কিছু অভিযোগও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের অনেকই প্রমাণহীন।
ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ প্রকাশ না করার ফলে বিচার বিভাগ কিছু নথি আটকে রাখছে। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘সব নথি কি প্রকাশিত হয়েছে? ট্রাম্পের নাম উল্লেখিত সব নথি কি দেয়া হয়েছে?‘
তবে, চূড়ান্ত তথ্যের প্রকাশে এপস্টেইনের শিকারদের একজন লিসা ফিলিপস নামের একজন দাবি রাখছেন, ‘আমরা বিচার বিভাগের কাজের সাথে সন্তুষ্ট নই। অনেক নথি এখনও প্রকাশিত হয়নি, সময়সীমা পেরিয়ে গেছে, এবং অনেক শিকারীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা লড়াই থামাব না। আমরা সম্পূর্ণটা দেখতে চাই’

















