টেকনাফে শিশু গুলিবিদ্ধ: মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব

মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে টেকনাফ সীমান্তে বাংলাদেশি শিশু হুজাইফা আফনানের গুলিবিদ্ধ হওয়ার জেরে ঢাকায় তাদের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়েকে তলব করে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ‘মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়েকে আজ দুপুরে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিয়ানমার থেকে সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। আন্তঃসীমান্ত গুলিতে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশের দিকে অতর্কিত গুলি ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সুপ্রতিবেশিসুলভ সম্পর্কের প্রতিবন্ধক’।
‘এ ঘটনার মিয়ানমারকে সম্পূর্ণ দায় নিতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত গুলি বন্ধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে বলেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও তার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যা কিছু ঘটুক না কেন, তাতে বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতেও বলেছে বাংলাদেশ।’
তলবের জবাবে মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এই ঘটনা বন্ধে তার মিয়ানমার সরকার উদ্যোগ নেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত। এছাড়াও আহত শিশু ও তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন তিনি।
নয় বছরের হুজাইফা কক্সবাজারের সীমান্ত লাগোয়া উপজেলা টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। রোববার সকালে দাদার সঙ্গে নাস্তা আনতে গিয়ে মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে আহত হয় সে।
আহত শিশুকে রোববার বিকেলে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন তার চাচা শওকত আলী। রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেলের চিকিৎসকরা তার মাথায় অস্ত্রোপচার করলেও গুলি বের করতে পারেননি।
মঙ্গলবার হুজাইফার শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রশাসনের উদ্যোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা হুজাইফার মস্তিষ্কের ‘চাপ কমাতে’ তার মাথার খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. হারুনুর রশীদ।
তিনি বলেন, ‘হুজাইফার শারীরিক অবস্থা আগের মতই সংকটাপন্ন। আজ মেডিকেল বোর্ডের বৈঠক ছিল। সেখানে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।’
এদিকে সোমবার টেকনাফ সীমান্ত সংলগ্ন নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে এক যুবক আহত হয়েছেন। মাইন বিস্ফোরণে আহত ২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ হানিফ টেকনাফ হোয়াইক্যংয়ের লম্ববিল গ্রামের ফজল করিমের ছেলে।
মাইন বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তার দাবিতে টেকনাফ-হোয়াইক্যং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় লোকজন। পাশাপাশি গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা আফনানের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন তারা।

















