সিংড়ায় দাউদারের কর্মীর পায়ের রগ কর্তন, দায়ী করা হচ্ছে বিএনপি প্রার্থীকে

নাটোরের সিংড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী রায়হান কবীরের (৪৫)দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত রায়হান কবীর সিংড়া উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের কর্মী।
এ ঘটনায় রায়হান কবীরের ছেলে মেহেদী হাসান নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেনসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে রায়হান কবীর দাউদার মাহমুদের কার্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বিল তাজপুরের সড়কে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে। তারা চাপাতি ও রামদা দিয়ে তার দুই পায়ের রগ কেটে সড়কে ফেলে রাখে। পরে এক ভ্যানচালক তাকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
রায়হান কবীরের ছেলে মেহেদী হাসান জানান, ‘আমার আব্বার অবস্থা ভালো না। তাঁর দুই পায়ের রগই কাটা পড়েছে। রক্ত পড়া বন্ধ হচ্ছে না। তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা শিবলী নোমানী বলেন, ওই ব্যক্তির পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
রায়হান কবীরের বড় ভাই আব্দুল করিম বলেন, ঘটনার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে রায়হান বলেছেন বিএনপি প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের কর্মী হিজলী গ্রামের রমজান আলী ও সোহানুর রহমানের নেতৃত্বে রহিদুল, আওয়াল, ফরহাদসহ বেশ কয়েকজন এই হামলা চালিয়েছে।
সোহানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সে সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পারিবারিক দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে। এখন ঘটনার সঙ্গে নির্বাচন টেনে আনা হচ্ছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ বলেন, রগ কেটে রায়হান কবীরকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বিএনপি করার কারণে সে গত ১৭ বছর চরম নির্যাতিত হয়েছিল। এখন দলের নেতা-কর্মীদের হাতে প্রাণ হারাতে বসেছে।
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অপরাধীদের কোনও দল নাই। যারাই রায়হানের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমার কোনও কর্মী তার ওপর হামলা করেনি।’
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ স ম আব্দুর নুর বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগটির প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















