গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ৮

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায় বাস্তবায়নের চুক্তির মাত্র দুই দিন পর উপত্যকা জুড়ে আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। রবিবার ভোরে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে চালানো এসব হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। নিহতদের মধ্যে কয়েকটি পরিবারের সদস্য রয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র জানায়, শহরের উত্তর-পশ্চিমে আল-কারারা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের তিনজন এক দম্পতি ও তাদের ছোট মেয়ে নিহত হন এবং আহত হন আরও তিনজন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাটি আল-হামস পরিবারের বাসভবনে আঘাত হানে। এতে নিহতরা হলেন মাহমুদ জাকি আল-হামস (৩৮), তার স্ত্রী ফাতিমা আল-হামস (৩৭) এবং তাদের শিশুকন্যা। এছাড়া মধ্য খান ইউনিসের দার আল-সালাম এলাকায় ইসরায়েলি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়, তবে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পশ্চিমে আল-মাশালা এলাকায় একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার হামলায় কামাল আবু মুয়াইলিক (৬৮) এবং তার স্ত্রী হুদা (৫৯) নিহত হন।
অন্যদিকে, গাজা শহরের বন্দর এলাকার কাছে আল-সুসি টাওয়ারের একটি অ্যাপার্টমেন্টে আলাদা বিমান হামলায় একই পরিবারের আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। আল-শিফা হাসপাতালের সূত্র অনুযায়ী, নিহতরা হলেন আবদুল্লাহ আবু তাইফ (৩৩), তার স্ত্রী আবির আনান (২৯) এবং তাদের ৫ বছর বয়সী ছেলে আজ্জাম।
পশ্চিম গাজা শহরের আল-নাসর মহল্লায় ফিলিস্তিন মসজিদের কাছে একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এছাড়া, পূর্ব গাজা শহরের আল-তুফাহ মহল্লার পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে গুলি বর্ষণ করা হলেও এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
চুক্তি ঘোষণার পরপরই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

















