পিলখানায় হিন্দিভাষীদের সম্পৃক্ততার তথ্য জানায় মেজর জাহিদকে পরিকল্পিত হত্যা!

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্য জানার কারণেই সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জাহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তার স্ত্রী জেবুন্নাহার ও দুই শিশুকন্যাকে চার মাসেরও বেশি সময় গুম রেখে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর বিচারিক প্যানেল মামলার প্রধান আসামি, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাযজ্ঞের দিন বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত মেজর জাহিদকে তার কোর্সমেট শহীদ ক্যাপ্টেন মো. মাজহারুল হায়দার ফোন করে জানান যে বিডিআরের পোশাক পরা কিছু হিন্দিভাষী ব্যক্তি পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করছে। পরবর্তীতে মেজর জাহিদ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান এবং বিভিন্ন সময়ে পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। এই সংবেদনশীল তথ্য জানার কারণেই তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের গোয়েন্দা নজরদারিতে পড়েন তিনি।
সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অযোগ্যদের পদোন্নতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৫ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন এবং পরিবার নিয়ে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রূপনগরের বাসায় অবস্থানকালে রূপনগর থানা পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেজর জাহিদকে হত্যার একই রাতে তার স্ত্রী জেবুন্নাহার ও দুই শিশুকন্যাকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গুম রাখা হয়। সেখানে স্বামীকে ‘জঙ্গি’ হিসেবে স্বীকার করার জন্য জেবুন্নাহারের ওপর প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক সাজানো জঙ্গি মামলা দায়ের করা হয়।
এমনকি মৃত্যুর পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর না করে দীর্ঘ আড়াই বছর ঢাকা মেডিকেলের মর্গে ফেলে রাখা হয় এবং শেষ পর্যন্ত বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের চেষ্টা করা হয়; পরবর্তীতে পরিবার উদ্যোগ নিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করে। দীর্ঘ নিপীড়ন ও কারাবাসের পর ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান জেবুন্নাহার।
জেবুন্নাহারের অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক ছাড়াও তৎকালীন ডিবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, মিরপুর বিভাগের ডিসি মাসুদ আহমেদ এবং ডিবির ডিসি কৃষ্ণ পদ রায়সহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জেবুন্নাহার উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন না হলে তাকে হয়তো সারাজীবন অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কাটাতে হতো। সাবেক আইজিপিকে গ্রেফতার দেখানোর মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ ও স্পর্শকাতর হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া এখন নতুন গতি পেল।
















