সেউতায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নজিরবিহীন ঢল, স্পেন থেকে মুখ ফেরাচ্ছে ফ্রান্স-ইতালি

উত্তর আফ্রিকার মরক্কো সীমান্ত থেকে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর নজিরবিহীন ঢল নেমেছে। সেখানে যেতে গিয়ে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অনুপ্রবেশের পর ৩০ জুলাই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। এদিন মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আনুমানিক ৪০,০০০ জনেরও বেশি মানুষ সমুদ্র ও স্থল সীমান্ত পেরিয়ে এই ইউরোপীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।
বিপুলসংখ্যক মানুষের এই আকস্মিক অনুপ্রবেশের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সেউতা কর্তৃপক্ষ।
মানবিক সংকট ও মৃত্যুর কারণ
ঝুঁকি নিয়ে সাগরের তারাহাল বাঁধ সাঁতরে পারহওয়ার সময় এবং সীমান্তে তাড়াহুড়ো ও ঠেলাঠেলির মধ্যে পড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া অনেক তরুণ ও কিশোর সাগরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ
সেউতার অস্থায়ী অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ৫১২ জন হলেও সেখানে কয়েক গুণ বেশি মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে শত শত শিশু ও তাদের পরিবার পার্ক ও ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছে।
স্পেনের সামরিক পদক্ষেপ ও জরুরি অবস্থা
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস একে একটি ‘চূড়ান্ত মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সীমান্ত সুরক্ষায় সিভিল গার্ড পুলিশকে সহায়তার জন্য স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার সেখানে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বৈঠক করতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা শুক্রবার সেউতা সফরে গেছেন।
অনুপ্রবেশের নেপথ্য কারণ ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি
চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের সরাসরি মরক্কোতে পুশব্যাক করা যাবে না, বরং তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিতে হবে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, মানবপাচারকারী চক্র এই আইনি সুযোগটির অপব্যবহার করে মানুষকে দলে দলে সাগর পাড়ি দিতে উৎসাহিত করেছে।
প্রত্যাবর্তন চুক্তি
সংকট মোকাবিলায় স্পেন ও মরক্কো প্রশাসন দ্রুত উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক করেছে। দুই দেশ চুক্তি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশকারী সকল অভিবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হবে।
ইতোমধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই অনিয়ন্ত্রিত অনুপ্রবেশকে ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে স্পেনকে সাময়িকভাবে শেনজেন অঞ্চল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সও স্পেনের সাথে তাদের নিজস্ব সীমান্তে কড়াকড়ি ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

















