কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী তীজন বাঈ আর নেই

ভারতের প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী ও পাণ্ডবাণী ধারার কিংবদন্তি তীজন বাঈ মারা গেছেন। রোববার (৫ জুলাই) ছত্তিসগড়ের রায়পুরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এইমস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে এই গুণী শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। প্রবাদপ্রতিম এই শিল্পীর প্রয়াণে ভারতের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাঈজির মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। অনবদ্য পরিবেশনার মাধ্যমে ছত্তিসগড়ের লোকশিল্পকে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত করেছিলেন এই শিল্পী। তার চলে যাওয়া শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রধানমন্ত্রী প্রয়াতের পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ছত্তিসগড়ের দুর্গ জেলার গানিয়ারি গ্রামে জন্ম নেওয়া তীজন বাঈ মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রথম মঞ্চে গান করেন। তৎকালীন সামাজিক রীতিনীতি ও পুরুষতান্ত্রিকতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি নারীদের প্রচলিত ‘বেদমতী রীতি’র বাইরে গিয়ে পাণ্ডবাণীর ‘কাপালিকা রীতি’ বেছে নেন। কাঁধে তানপুরা নিয়ে মহাভারতের বিভিন্ন পর্ব এক এক করে গেয়ে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তার এই সাহসী পথচলা ছত্তিসগড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিজস্ব শিল্প প্রকাশে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল, যা রাজ্যটিতে এক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা করে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেছেন তীজন বাঈ। ছত্তিসগড়ের লোকশিল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে পদ্মশ্রী, ২০০৩ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০১৯ সালে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ফুকুওকা শিল্প পুরস্কারও লাভ করেছিলেন এই লোকমাতা।







