বনানী কবরস্থানে সমাহিত হলেন বরেণ্য চারুশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

ঢাকার বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে বরেণ্য চারুশিল্পী পাপেট চর্চার অন্যতম প্রাণপুরুষ মুস্তাফা মনোয়ারকে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে সাদাত মনোয়ার।
তিনি বলেন, “আমার নানা তোফায়েল উদ্দিন আহমেদের কবরে তিনি শায়িত হয়েছেন।”
এর আগে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর সোয়া ২টায় অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা।
সেখানে অভিনয়শিল্পী আবুল হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, রাশেদ মামুন অপু, হাবিবুর রহমান খান, খোরশেদ আলম খসরুসহ চ্যানেল আই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আরও অনেকে জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা শুরুর আগে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, “মুস্তাফা মনোয়ার আমাদের সবার গুরুজন। তার সঙ্গে আমাদের সখ্যতা দীর্ঘদিনের। চার বছর আগে তার নামে আমরা চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে একটি স্টুডিওর নামকরণ করেছি।”
তিনি বলেন, “দীর্ঘ কয়েক দশকের শিল্পসাধনা, টেলিভিশন, চিত্রকলা, পাপেট আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক জাগরণে মুস্তাফা মনোয়ারের অসামান্য অবদান বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
মুস্তাফা মনোয়ারের শেষ বিদায়ের কাজ শুরু হয় মঙ্গলবার সকালে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গণ দিয়ে। সেখানে এই শিল্পীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণ থেকে শহীদ মিনারে পৌঁছায় বেলা ১১টায়। সেখানে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সে সময় বিগিউলে বেজে ওঠে করুণ সুর।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নেওয়া হয় তার কর্মজীবনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই সব্যসাচী শিল্পীর মৃত্যু হয়। মুস্তাফা মনোয়ারের বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
সবশেষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।







