৩৯ বছরে এসে মেসি প্রমাণ করলেন বয়স কেবলই সংখ্যা

১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেন লিওনেল মেসি। শৈশবে গ্রোথ হরমোনের গুরুতর সমস্যা ও নানাবিধ শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর জীবনসংগ্রাম।
অর্থাভাবের কারণে যখন চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, তখন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা এক টুকরো ন্যাপকিন কাগজে চুক্তি করে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। সেই লা মাসিয়া একাডেমি থেকে শুরু করে আজ ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠ কাঁপানো—সবখানেই মেসি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফুটবল ইতিহাসের সব হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে দেন তিনি।
সাধারণত ৩৯ বছর বয়সে এসে ফুটবলাররা বুট তুলে রাখার প্রস্তুতি নেন, কিন্তু মেসি যেন বয়সকে স্রেফ একটি সংখ্যায় পরিণত করেছেন। চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা:
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন।
প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক:
এবারের আসরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
ধারাবাহিকতা: টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য রেকর্ডও গড়েছেন এই মহাতারকা।
মেসির ক্যারিয়ারের সোনালী পরিসংখ্যান
ফুটবল ইতিহাসে মেসির মতো এত ব্যক্তিগত ও দলীয় ট্রফি আর কেউ অর্জন করতে পারেনি। তাঁর ক্যারিয়ারের মূল অর্জনগুলো হলো:
ব্যালন ডি‘অর: রেকর্ডসংখ্যক ৮ বার বিশ্বের সেরা ফুটবলারের পুরষ্কার জয়।
মোট গোল: পেশাদার ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মোট ৯১৬টি গোল।
অ্যাসিস্ট: ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪১৫টিরও বেশি অ্যাসিস্ট।
অন্যান্য প্রধান ট্রফি: ১টি ফিফা বিশ্বকাপ (২০২২), ১টি কোপা আমেরিকা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ১০টি লা লিগা শিরোপা.
ভক্তদের অনুভূতি: বিদায়ের গোধূলিলগ্নে এক টুকরো বিষাদ
মেসির ৩৯তম জন্মদিনটি ভক্তদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনই কিছুটা মন খারাপেরও। কারণ, ফুটবল ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সে এসেও তিনি যেভাবে খেলছেন, তা এক অলৌকিক জাদু বললেও ভুল হবে না। ভক্তদের মনে একটাই প্রার্থনা, মাঠের এই চিরসবুজ জাদুকরের পায়ের জাদু অম্লান থাকুক ইতিহাসে।







