কূটনৈতিক দিগন্ত উন্মোচনের আশায় প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফরে আজ বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফরে যাচ্ছেন তিনি। কুয়ালালামপুরে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে সোমবার রাতে তিনি সরাসরি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
দুই দেশে মোট ৬ দিনের এই ঐতিহাসিক সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম বিদেশ সফর। কূটনৈতিক সূত্র মতে, এই জোড়া সফরের মূল লক্ষ্য হলো— দেশের অর্থনৈতিক এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করা। সফরে দুই দেশের সাথে মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সফর: ফোকাসে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পুত্রাজায়ার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানো হবে। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে তাঁর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এই সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো হলো:
শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবন: বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা এবং সেখানে অবস্থানরত অনিয়মিত কর্মীদের বৈধ বা নিয়মিত করার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
সমঝোতা স্মারক: কুয়ালালামপুরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হওয়ার কথা রয়েছে।
সহযোগিতার খাত: বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, জ্বালানি, কৃষি এবং উচ্চশিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মোট ২৭ জনের একটি প্রতিনিধিদল।
মালয়েশিয়া থেকেই চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা
কুয়ালালামপুরের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ২২ জুন সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের বন্দর নগরী ডালিয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত তিনি চীনে আনুষ্ঠানিক সফর করবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে এই সফরে যাচ্ছেন তিনি।
চীন সফরে বাংলাদেশের মূল প্রত্যাশা ও কর্মসূচি:
অবকাঠামো ও বাণিজ্য: এই সফরে মূলত বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
শীর্ষ বৈঠক: বেইজিংয়ে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাউ লি’র সাথে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন।
স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ: পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, এই সফরের মাধ্যমে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার ‘কমপ্রিহেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
৬ দিনের এই সফর শেষে আগামী ২৬ জুন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং ওই দিন রাতেই তাঁর ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে।







