বিএনপি সরকার ইসলামী ব্যাংকে কালো থাবা দিয়েছে: শফিকুর রহমান

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ইসলামী ব্যাংকে কালো হাতের থাবা দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলীয় অনুগত ও পদধারী লোকদের বসানো হয়েছে। জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে দলীয় ক্যাডার ও দলীয় নেতাদের বসিয়ে বিগত ফ্যাসিস্টদের মতো দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা চলছে। শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মী সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইতিহাস ভুলবেন না। শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, কিন্তু অর্ধবছরও থাকতে পারেননি। দেশের মানুষ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ও অনির্বাচিত প্রশাসক দেখতে চায় না।’
তিনি নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দেখার দাবি জানান। জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, ২৪-র জুলাই আন্দোলন হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। যাদের রক্ত এবং জিহাদের কারণে আজকের সংসদ, সরকার ও বিরোধী দল, তাদের অবদানকে অবজ্ঞা করলে নিজের সঙ্গেই গাদ্দারি করা হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ মতামত প্রকাশ করলেও অনেক জায়গায় তার সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হতো। জনগণের সেই বিজয় ছিনতাই করা হলেও দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাচন হওয়ায় একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটের কারণে এই নির্বাচন মেনে নিতে হয়েছে।
নির্বাচনে প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গণভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না। জনগণের মনের ভাষা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অনেক ভুল করেছে এবং তাদের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। উল্টো জামায়াতকে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মো. আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ অন্য নেতারা। সম্মেলন শেষে জামায়াত আমির আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।







