না ফেরার দেশে নাট্যজন আতাউর রহমান, দাফন হবে বনানীতে

স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশের বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আতাউর রহমান আর নেই।
সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
আতাউর রহমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান। তিনি জানান, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে গিয়ে আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দ্রুত তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে আইসিইউ শয্যা না পাওয়ায় পরে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। মাঝে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও রোববার পুনরায় অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আতাউর রহমানের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এরপর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। আপাতত বাদ জোহর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে মঞ্চনাটক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। একাধারে অভিনেতা, নির্দেশক, লেখক ও সংগঠক হিসেবে তিনি দশকের পর দশক সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে একুশে পদক ও দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে।
তাঁর প্রয়াণে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। বরেণ্য এই নাট্যজনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

















