ফিন ক্যাশ ও স্মার্টলোন অ্যাপের প্রতারণা, টাকা না দিলে হুমকি

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজ শর্তে এবং তাৎক্ষণিক ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে সুপরিকল্পিত প্রতারণার জালে আটকে ফেলছে একাধিক অসাধু চক্র। ‘ফিন ক্যাশ’, ‘স্মার্টলোন ওয়ার্ল্ড’, ‘ক্যাশ ক্রেডিট’ ও ‘কুইক লোন’—এমন নানা আকর্ষণীয় নামে পরিচালিত মোবাইল অ্যাপগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে এসব অ্যাপের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির এক ভয়ংকর নেটওয়ার্ক।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব অ্যাপে নিবন্ধনের সময় গ্রাহকের মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি গ্যালারি ও কন্টাক্ট লিস্টের এক্সেস (Access) নিয়ে নেওয়া হয়। গ্রাহক ১ হাজার ৫০০ টাকা ঋণের আবেদন করলে বিভিন্ন ফি কেটে মাত্র ৯৭৫ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র সাত দিন পরই আদায় করা হয় ১ হাজার ৭২৫ টাকা। অর্থাৎ অতি স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক হারে সুদ আরোপ করা হচ্ছে, যা দেশের প্রচলিত আর্থিক নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেই শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ছবি ও কন্টাক্ট লিস্ট হাতিয়ে নেওয়ার ফলে সেগুলোকে অপব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এমনকি গ্রাহককে সামাজিকভাবে হেয় করতে তাঁর কন্টাক্ট লিস্টে থাকা পরিচিতজনদের কাছে আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হয়।
একজন সংবাদকর্মী পরীক্ষামূলকভাবে একটি অ্যাপে আবেদন করে ১ হাজার ৮০০ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ পার হতেই ৩ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংবাদকর্মী নিজের পরিচয় দিলে চক্রটি দ্রুত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই ঘটনায় রাজশাহীর আদালতে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন ২০২৪’ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, অনলাইনভিত্তিক এই প্রতারক চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে সাইবার ইউনিটের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব অ্যাপ পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান চালানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অচেনা অ্যাপে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান না করতে এবং এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে।

















