ম্যাক মিনি ও স্টুডিওর ঘাটতি, চিন্তায় পড়েছেন অ্যাপল প্রধান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট স্থানীয়ভাবে চালানোর জন্য ম্যাক পণ্যের অভাবনীয় চাহিদা অ্যাপলকে বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের মুখে ফেলেছে। গত বৃহস্পতিবার অ্যাপলের ত্রৈমাসিক আয় সংক্রান্ত সভায় সিইও টিম কুক জানান, ম্যাক মিনি এবং ম্যাক স্টুডিওর এই ঘাটতি আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই ম্যাক ডেস্কটপগুলোর চাহিদা ছিল গগনচুম্বী। ব্যবহারকারীরা মূলত ‘ওপেনক্ল’ (OpenClaw)-এর মতো আধুনিক এআই টুলসগুলো সরাসরি নিজেদের ডিভাইসে চালানোর জন্য এই পণ্যগুলোর ওপর নির্ভর করছেন। অ্যাপল এই বিপুল চাহিদার বিষয়টি আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি।
টিম কুক বলেন, “এআই ব্যবহারের জন্য ম্যাক মিনি ও ম্যাক স্টুডিও অত্যন্ত শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। গ্রাহকরা আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত এই সক্ষমতা বুঝতে পেরেছেন। ফলে আমরা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি চাহিদা লক্ষ্য করছি।”
গত মাসের শুরুর দিকে অ্যাপলের অনলাইন স্টোরে ম্যাক স্টুডিও এবং ম্যাক মিনির বেশ কিছু উন্নত কনফিগারেশনের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ৫৯৯ ডলারের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ম্যাক মিনিটিও বাজার থেকে নিঃশেষ হয়ে যায়। টিম কুক মনে করছেন, বাজারে পণ্য দুটির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য ফিরে আসতে অন্তত আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।
এই ঘাটতির পেছনে বিশ্বব্যাপী মেমরি চিপের সংকটকেও দায়ী করা হচ্ছে। এআই সংশ্লিষ্ট বড় কোম্পানিগুলো বিশ্ববাজারের সিংহভাগ র্যাম (RAM) এবং স্টোরেজ দখল করে নেওয়ায় পিসি নির্মাতাদের খরচ বেড়েছে। কুক জানান, গত প্রান্তিকে মেমরি চিপের পেছনে অ্যাপলকে আগের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই খরচ আরও বাড়লে তার প্রভাব পণ্যের দামের ওপর পড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সরবরাহ সংকট থাকলেও গত মার্চ প্রান্তিকে ১১১.২ বিলিয়ন ডলার আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে অ্যাপল। আইফোন ১৭ সিরিজের অভাবনীয় চাহিদা এই রেকর্ড আয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ম্যাক ডেস্কটপগুলোর সরবরাহ স্বাভাবিক করা এখন কোম্পানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।







