পাঁচ বছর পর পুরোহিত নিয়োগ হলো নোবিপ্রবির ত্রি-ধর্মীয় উপাসনালয়ে

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) দীর্ঘ পাঁচ বছর পর স্থায়ী পুরোহিত নিয়োগের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ত্রি-ধর্মীয় উপাসনালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় পুরোহিত না থাকায় উপাসনালয়টির কার্যক্রম ঝিমিয়ে থাকলেও, বর্তমান প্রশাসনের এই পদক্ষেপে এখন সেখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে।
রেজিস্ট্রার দপ্তরের সূত্রমতে, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে একজন পুরোহিত নিয়োগ দেয়। এর ফলে সনাতন, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। উপাসনালয়টিতে এখন ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পুরোহিত তপু চক্রবর্তী জানান, আগে স্থায়ী কেউ না থাকায় ধর্মীয় কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা ছিল না। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ উপাসনালয়ে আসছেন। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে গীতা পাঠ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মুন বিশ্বাস বলেন, “স্থায়ী পুরোহিত না থাকায় বিশেষ ধর্মীয় দিবসগুলো পালনে অপূর্ণতা থেকে যেত। এখন নিয়মিত কার্যক্রমে আমাদের নৈতিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য আমরা কাজ করছি। পুরোহিত নিয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সংস্কার ও টাইলস স্থাপনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।”
ত্রি-ধর্মীয় উপাসনালয়ের সভাপতি ড. দিব্যদূতি সরকার এই উদ্যোগকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেন।

















