‘মব’ করে জামায়াত নেতাকে মারধরের চেষ্টা বিএনপি নেতাকর্মীদের

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মব সৃষ্টি করে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের হলরুমে যুবদলের একদল নেতাকর্মী আকস্মিক মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে জামায়াত নেতা ও কাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়।
এ সময় তারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে সভা পণ্ড করে দেয় এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনেই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজনৈতিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই হামলার পেছনে রয়েছে স্থানীয় সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ ও খাদ্যগুদামে পণ্য সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা। ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান আলম হুসাইন সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর মদতে এই হামলা হয়েছে।
সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের চাল বরাদ্দ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যে এই মব সৃষ্টি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় খোদ বিএনপির অভ্যন্তরীণ মহলেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু ও পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা এই কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির রাজনীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তারা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। অন্যদিকে সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বিষয়টিকে দখল-বাণিজ্যের অপরাজনীতি হিসেবে দেখছেন। ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শহরে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে রাজনৈতিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

















