ডাণ্ডাবেড়ি পরেই বাবার জানাজায় অংশ নিলেন ছাত্রলীগ নেতা

বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেলেও হাতের হাতকড়া ও পায়ের ডাণ্ডাবেড়ি খোলেনি পুলিশ। এই অবস্থাতেই বাবার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছেন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম জোমাদ্দার। ডাণ্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় বাবার লাশ কাঁধে নিয়ে ছেলের কবরস্থানে যাওয়ার এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আবেগঘন এবং শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকালে রাকিবুলের বাবা মোশাররফ জোমাদ্দরের মৃত্যু হলে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রশাসনের অনুমোদনের পর পুলিশি পাহারায় তাকে স্বল্প সময়ের জন্য বাড়িতে আনা হয়। তবে পুরো সময় জুড়ে তার পায়ের ডাণ্ডাবেড়ি ও হাতের হাতকড়া লাগানো ছিল।
স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এবং জানাজায় উপস্থিত স্বজনরা এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ বলে দাবি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জানাজা ও দাফনের সময়ও তার ডাণ্ডাবেড়ি খোলা হয়নি। ডাণ্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় সে বাবার লাশ কাঁধে নিয়ে কবরস্থানে গিয়েছে। প্রশাসনের কাছে কি মানবিকতা বলতে কিছু নেই?” নলছিটি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনীক রহমান সরদার এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে রাকিবুলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম জানান, একটি রাজনৈতিক মামলায় রাকিবুল ইসলাম কারাগারে ছিলেন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে যথাযথ নিয়ম মেনে পুলিশ পাহারায় তাকে জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ীই তাকে এই প্রক্রিয়ায় জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে দেওয়া হয়। দাফন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই তাকে পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

















