আলোচনার ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ কি ইরানে আগ্রাসন ঠেকাবে?

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করলেও যুদ্ধ এড়ানোর মতো কোনো চুক্তিতে তারা পৌঁছাতে পারছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মধ্যস্থতাকারী বদর আলবুসাইদি বলেছেন, দেশে ফিরে ফের দুই পক্ষেরই আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে। ভিয়েনায় আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে; কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে হলেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য রয়েছে। বিবিসিকে আরাগচি বলেছেন, পরের বৈঠক এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যেমের খবরে বলা হয়েছে- আলোচকরা ইরানের যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি অর্জনের অধিকার রয়েছে তা জোরের সঙ্গে তুলে ধরেছেন এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ ও তেহরানের কাছে এখন যে ৪০০ কেজির মতো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা ইরানের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা হয়তো কিছু বিষয়ে ছাড়ও দিয়েছেন, যদিও তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
কিছু প্রতিবেদন বলছে, ইরানের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অধীনে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রেখে এরপর ন্যূনতম মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি চেয়েছে।
চুক্তির বদলে ইরানি আলোচকরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন, ইরানি টেলিভিশনকে এমন কথা বলেছেন আরাগচি। দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রেখেছে।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ছাড় পেলে ইরানের শাসকরা ফের শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে শঙ্কা মোল্লাতন্ত্রবিরোধীদের।
বৃহস্পতিবার ওমানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে হওয়া পরোক্ষ আলোচনা দুই পর্বে হয়েছে বলে জানা গেছে। সকালের অধিবেশন চলেছে তিন ঘণ্টা, সন্ধ্যার অধিবেশনের দৈর্ঘ্য ছিল ছোট। আলোচনা কেমন হয়েছে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলেনি।
দু’পক্ষের আলোচনা ইরানে মার্কিন হামলার ঝুঁকিও কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০০৩ সালে হওয়া ইরাক যুদ্ধের পর এবার যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বড় সৈন্য মোতায়েন করেছে। দুটি বিমানবাহী রণতরী, অসংখ্য যুদ্ধবিমান ও জাহাজের পাশাপাশি বিপুল সামরিক সরঞ্জাম ইরানের কাছাকাছি রেখেছে তারা। মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
তবে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে হামলা অবধারিত বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। ওয়াশিংটন এখন আলোচনার নামে কার্যত ‘হামলার সেরা সুযোগ’ খুঁজছে, বলছেন তারা।
অন্যদিকে ইরান বলেছে, যে কোনো হামলার ভয়াবহ জবাব দেবে তারা। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টার অভিযোগ করে যাচ্ছে। তেহরান শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ।

















