ঠিকাদারকে আব্বা বাহিনীর নির্যাতন, স্বেচ্ছাসেবক দলনেতার দাবি ৫০ লাখ টাকা

রাজধানীর উপকণ্ঠ দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ-এর এক বৃক্ষরোপণ ঠিকাদারকে অপহরণ করে ‘টর্চার সেলে’ আটকে রেখে বর্বরোচিত নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মোঃ নিজামুদ্দিনকে (৪২) উল্টো করে ঝুলিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করার পাশাপাশি তার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার এই লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হাসনাবাদ এলাকা থেকে নিজামুদ্দিনকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একদল সন্ত্রাসী। অভিযোগের তীর হাসনাবাদ দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ শাহিন ও তার অনুসারী তথাকথিত ‘আব্বা বাহিনী’র দিকে। অপহরণের পর তাকে হাসনাবাদ মাজার সংলগ্ন একটি কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে, মুখে কাপড় গুজে দিয়ে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজামুদ্দিন বলেন, “আমাকে যেভাবে টর্চার সেলে নির্যাতন করা হয়েছে, আমি এখনো সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারছি না।” সন্ত্রাসীরা তার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তিনটি সাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। নির্যাতনের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার রক্তাক্ত পোশাক বদলে দিয়ে রিকশায় তুলে দেয় সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এই ঘটনায় দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় (মামলা নং-৩০) মামলা দায়ের করা হলেও ৬ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। এর ফলে পুরো পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঠিকাদার নিজামুদ্দিন ও তার পরিবার এই ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়’ থাকা সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি কেটে দেন।

















