শেখ হাসিনার গণহত্যার বর্ণনা সংসদে তুলে ধরবেন রাষ্ট্রপতি

আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, শুরুর দিনেই সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে এবারের ভাষণটি হতে যাচ্ছে নজিরবিহীন। যে রাষ্ট্রপতির হাতে শেখ হাসিনা শপথ নিয়েছিলেন, সেই রাষ্ট্রপতির মুখেই এবার উঠে আসবে হাসিনা সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের দুর্নীতি, অপশাসন ও জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার বর্ণনা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় দেড়শ পৃষ্ঠার এই ভাষণে প্রাধান্য পাচ্ছে ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনসহ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিস্তারিত খতিয়ান। এছাড়া বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয়গুলোও এই ভাষণে যুক্ত করা হয়েছে।
সূত্রমতে, ভোটারবিহীন ও প্রহসনের দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় টিকে থাকার অগণতান্ত্রিক ইতিহাস থাকছে এই ভাষণে। বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন, গুম, খুন এবং ‘আয়নাঘর’-এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী নিপীড়নের খতিয়ানও থাকছে একটি বড় অংশ জুড়ে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পলায়ন এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দিলেও তা প্রস্তুত করে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এবারের ভাষণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল প্রায় তিন মাস আগে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি এই নির্ধারিত ভাষ্যই সংসদে পাঠ করবেন।
জানা গেছে, ভাষণটি দীর্ঘ হওয়ায় রাষ্ট্রপতি এর পুরোটা পাঠ করবেন না। তিনি কেবল ভাষণের চুম্বক বা গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পড়ে শোনাবেন। বাকি অংশ স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে সংসদে পঠিত বলে গণ্য হবে। পরবর্তীতে সংসদ সদস্যরা এই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব এনে আলোচনা করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব নেওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এর আগে দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেও ভাষণ দিয়েছিলেন, যেখানে বিগত সরকারের বন্দনা ছিল। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবার তাঁর কণ্ঠেই ধ্বনিত হবে পতিত সরকারের অপশাসন ও জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত ইতিহাস।

















