৫৫ শতাংশ আমেরিকানের মতে ভুল পথে ট্রাম্প

আসন্ন ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণের ঠিক এক দিন আগে প্রকাশিত একটি নতুন জনমত জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে গভীর অসন্তোষের চিত্র ফুটে উঠেছে। এনপিআর, পিবিএস নিউজ এবং ম্যারিস্ট পলের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান মনে করছেন ট্রাম্প দেশটিকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড দেশটিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা তার প্রথম মেয়াদের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ এবং গত এপ্রিল মাসের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। নাগরিকদের এই মতামত স্পষ্টত রাজনৈতিক মেরুকরণের ওপর ভিত্তি করে বিভক্ত; যেখানে ৯০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করছেন দেশের অবস্থা এক বছর আগের তুলনায় খারাপ, সেখানে ৮২ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করছেন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
তবে এই জরিপের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো সরকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা হ্রাস পাওয়া। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৪৩ শতাংশ নাগরিক মার্কিন প্রশাসনের ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে একটি বড় অংশের মানুষ গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আস্থা হারিয়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের অধিকাংশ নীতি বা পরিকল্পনাকে সমর্থন করছেন, যা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে। রিপাবলিকান বা রিপাবলিকানপন্থী নাগরিকদের মধ্যে ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা ও নৈতিকতা নিয়ে আস্থার উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। গত বছর যেখানে ৭৫ শতাংশ রিপাবলিকান তাকে কাজের জন্য মানসিকভাবে উপযুক্ত মনে করতেন, এখন তা কমে ৬৬ শতাংশে নেমেছে। একইভাবে, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তার নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়ে দলীয় সমর্থকদের সমর্থন ৫৫ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নিজের দলের ভেতরে এই আস্থার সংকট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনব্যবস্থাকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।

















