যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে ইরান। তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত ৯টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সুপরিকল্পিত হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে মোতায়েন করা অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ঘাঁটি হামলার প্রথম দুই দিনেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়, যার কয়েকটি বর্তমানে কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ কেন্দ্র এবং যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কংগ্রেসের একজন কর্মকর্তার মতে, তেহরান অত্যন্ত কৌশলে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং প্রতিস্থাপন করা কঠিন এমন সরঞ্জামগুলোকে আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে উত্তর ইরাকের অস্ত্রাগার এবং কুয়েতের আলি আল সালেম ও কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির রানওয়েতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ মিলেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে, তা মেরামত করতেই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। সিএনএনকে একটি সূত্র জানায়, সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে পেন্টাগনের ভেতরেই বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ এগুলো মেরামত করার কথা বললেও, অন্যপক্ষ মনে করছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ফলে স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি খরচ হয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে ধ্বংস হওয়া সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন এবং স্থাপনাগুলো পুনরায় গড়ে তুলতে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন রাডার ব্যবস্থাগুলো অত্যন্ত সীমিত সম্পদ। এই গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো ধ্বংস হওয়ায় ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থা বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।