এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল নানা কারণে ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আট বিশ্বকাপ পর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারায় চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
এমন হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের দিনে ব্রাজিলিয়ান শিবিরে আরও বড় ধাক্কা লাগলো যখন খেলা শেষে অশ্রুসিক্ত নেইমার আভাস দিলেন, সেলেসাওদের সঙ্গে তার ক্যারিয়ারের গল্পটা এখানেই শেষ হচ্ছে। যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল দলে তার অভিষেক হয়েছিল সেখানেই দলের সাথে সম্পর্ক চুকিয়ে নিলেন দলটির অন্যতম তারকা ফুটবলার।
এর মধ্যদিয়ে একটি সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটলা। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের কাছে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন তিনি।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। পরে গণমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এবার সব শেষ! এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ২০১০ সালে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ করলাম।’

২০১০ সালের ১০ আগস্ট এই মাঠেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল তরুণ নেইমারের। কাকতালীয়ভাবে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই একই মাঠেই শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
ইনজুরি জর্জরিত শেষ বিশ্বকাপ
চোটের কারণে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি নেইমার। কার্লো আনচেলত্তি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে তাকে কিছুক্ষণ খেোলেও নকআউট পর্বের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে তার ওপর ভরসা রাখা হয়েছিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি তিনিই করেন।
তবে আরলিং হলান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ে ম্যাচ জিতে নেওয়ায় নেইমারের সেই গোলটি কেবল সান্ত্বনাই বয়ে এনেছে। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি কেবল ৩৭ মিনিট খেলার সুযোগ পান।
ব্রাজিলের জার্সিতে পরিসংখ্যান ও অর্জন
১৬ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নেইমার নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
ম্যাচ ও গোল: দেশের হয়ে ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন রেকর্ড ৮০টি গোল। তিনি ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
অ্যাসিস্ট: গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৫৮টি গোল।
প্রধান ট্রফি: সেলেসাওদের হয়ে তিনি ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয় করেন।
অসংখ্য বিতর্ক, ফর্মের ওঠাপড়া আর ইনজুরির বাধা পেরিয়েও তিনি ছিলেন এক প্রজন্মের ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা। বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়া না হলেও, ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে পেলের পাশে নেইমারের নামওটাও চিরকাল লেখা থাকবে।