২৬০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রেখেই ডব্লিউএইচও ছাড়ল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই প্রস্থান কেবল কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সংস্থাটির পাওনা বিশাল অংকের বকেয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জটিলতা। ডব্লিউএইচওর আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংস্থাটির প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে, যা পরিশোধ না করেই ওয়াশিংটন তার সদস্যপদ ত্যাগ করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় এই ঐতিহাসিক প্রত্যাহারের ফলে ডব্লিউএইচও তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত অনুদান পরিশোধ না করায় সংস্থাটি ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে তাদের বিভিন্ন কার্যালয়ে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই বকেয়া অর্থ পরিশোধের কোনো যৌক্তিক কারণ দেখছে না এবং সংস্থাটিতে সব ধরনের মার্কিন সরকারি অর্থায়ন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ডব্লিউএইচও আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের অবদানকে ছোট করে দেখেছে। অন্যদিকে, ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন, এই বিশাল পরিমাণ অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পোলিও নির্মূল, মাতৃমৃত্যু হ্রাস এবং এইডস প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কর্মসূচিগুলো বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হবে।
বর্তমানে জেনেভায় সংস্থার সদর দপ্তরসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বকেয়া অর্থ এবং পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে আগামী ২ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি ডব্লিউএইচওর নির্বাহী বোর্ডের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এক অনিশ্চিত অধ্যায়ের সূচনা করল।


















