দেশের রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়াতে এবং কর কাঠামোকে আরও সুসংহত করতে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে দেশের প্রান্তিক ও মাঝারি পর্যায়ের বেশ কিছু ব্যবসাকে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটেরআওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সংসদে জানিয়েছেন, তৃণমূল পর্যায়ের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাকে নিয়মতান্ত্রিক কর কাঠামোর মধ্যে আনাই এই পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য।
অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে যেসব ব্যবসায়ী খাতকে ভ্যাটের এই বিশেষ কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো হলো:
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাত: মুদিদোকান, কনফেকশনারি, মিষ্টান্ন ভান্ডার এবং রেস্তোরাঁ।
পোশাক ও রূপচর্চা: তৈরি পোশাক বা কাপড় বিক্রেতা, প্রসাধনসামগ্রীর দোকান (বিউটি পারলার ও কসমেটিকস সামগ্রী) এবং জুতার দোকান।
গৃহস্থালি ও ইলেকট্রনিকস: প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য; মুঠোফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা।
নির্মাণ ও হার্ডওয়্যার: হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা; পেইন্ট, স্যানিটারি ও ফিটিংস; টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান এবং রড ও সিমেন্টের ব্যবসা।
অন্যান্য সেবা: ফার্নিচার বা আসবাবপত্রের দোকান এবং ডেকোরেটরস।
বিগত অর্থবছরের ভ্যাট রাজস্বের চিত্র
লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক ভ্যাট আদায়ের একটি পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তার তথ্যমতে, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট বাবদ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। নতুন খাতগুলো যুক্ত হলে এই আদায়ের পরিমাণ আগামীতে আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুদিদোকান বা প্রসাধনসামগ্রীর মতো খাতগুলোতে সুনির্দিষ্ট কর নির্ধারণ করা হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট প্রদানের প্রক্রিয়াটি সহজ হবে। এতে একদিকে যেমন মাঠপর্যায়ে হয়রানি কমবে, অন্যদিকে সরকারের জন্য রাজস্বের একটি বড় এবং স্থায়ী উৎস তৈরি হবে। তবে এই বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনতে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ও এনবিআরের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানোই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।