দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আওয়ামী লীগ সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেছেন। বারবার কারাবরণ করেছেন, সহ্য করেছেন রাজনৈতিক জেল-জুলুম। কিন্তু নিজ দলের কর্মীদের হাতেই এমন ন্যাক্কারজনকভাবে লাঞ্ছিত হতে হবে—তা কখনো কল্পনাও করেননি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য আবদুল মান্নান তালুকদার।
গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গৌরীপুর পৌরসভার নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে মান্নান তালুকদারকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে একটি সেলুনে নিয়ে জোরপূর্বক মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত ভেঙে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী মান্নান তালুকদার জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি সিএনজিযোগে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন। রেলক্রসিং এলাকায় তাকে দেখতে পেয়ে পথরোধ করেন গৌরীপুর পৌর কৃষক দলের সভাপতি কাজিয়েল হাজাত শাহী মুন্সি। এরপর তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে নিকটস্থ একটি সেলুনে নিয়ে বসানো হয়। সেখানে শাহী মুন্সি ও তার সহযোগীরা মিলে তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেন এবং পথচারীদের ডেকে এনে তাকে লাঞ্ছিত করেন।
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বিগত সরকারের আমলে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। বারবার জেল খেটেছি। কিন্তু এমন নির্যাতনের শিকার হইনি। নির্বাচনে আমি দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর (আহাম্মাদ তায়েবুর রহমান হিরণ) পক্ষে ভোট করেছিলাম, এটাই কি আমার একমাত্র অপরাধ?”
এই ঘটনায় বুধবার রাতেই আবদুল মান্নান তালুকদার বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় শাহী মুন্সিকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শাহী মুন্সি দাবি করেছেন, তাকে ফাঁসাতে এটি একটি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ তথ্য।
এদিকে, পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়া একজন কর্মীকে নিজ দলের লোকেরাই লাঞ্ছিত করেছে, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
ময়মনসিংহ জেলা কৃষক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার আকন্দ জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।