মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাতের জের ধরে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ ১১৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।
বাংলাদেশ সময় ২৩ জুন ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি নিরাপদভাবে অতিক্রম করে। গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি প্রথম বাণিজ্যিকভাবে পণ্য পরিবহনের উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল।
কাতার থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করার পর জাহাজটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরদিনই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা চরম আকার ধারণ করলে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে জাহাজটি সমুদ্রসীমানায় আটকা পড়ে।
দীর্ঘ প্রায় চার মাসের অবরুদ্ধ জীবনে জাহাজটি অন্তত তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করেও নিরাপত্তার চরম ঝুঁকির কারণে ব্যর্থ হয়ে পুনরায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালি সামরিক কারণে বর্তমানে সাধারণ নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত নয়। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতার ফলশ্রুতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জাহাজটিকে বিশেষ 'ট্রানজিট ক্লিয়ারেন্স' বা যাতায়াতের অনুমতি প্রদান করে। এই বিশেষ সামরিক ও কূটনৈতিক ছাড়পত্রের কারণেই দীর্ঘ ১১৫ দিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটে।
জাহাজটিতে মোট ৩১ জন বাংলাদেশি ক্রু ও নাবিক কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝে অবরুদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের নিয়মিত যোগাযোগ ও তদারকির কারণে জাহাজে খাবার বা পানির কোনো সংকট তৈরি হয়নি। বর্তমানে জাহাজের সকল কর্মকর্তা ও নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।
হরমুজ প্রণালির বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে জাহাজটি বর্তমানে ওমান উপসাগরে অবস্থান করছে। বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন সাগরে নোঙর করে থাকার কারণে জাহাজের প্রপেলার ও তলায় সামুদ্রিক শ্যাওলা ও ময়লা জমে গতি কমে গেছে। তাই জাহাজটি বর্তমানে জ্বালানি গ্রহণ এবং তলা পরিষ্কারের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।