হোয়াটসঅ্যাপে আরও শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করে ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি রক্ষায় এনভিডিয়ার সাথে বিশাল অংকের চুক্তি করেছেন মেটা।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, কয়েক হাজার কোটি ডলারের এ চুক্তির আওতায় এনভিডিয়ার তৈরি শত শত উন্নতমানের ‘ব্ল্যাকওয়েল’ ও ‘রুবিন’ জিপিইউ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।
জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে মার্কিন চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়ার ‘কনফিডেন্সিয়াল কম্পিউটিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে মেটা। ফলে হোয়াটসঅ্যাপে ‘ব্যবহারকারীর তথ্যের সর্বোচ্চ প্রাইভেসি ও সুরক্ষা নিশ্চিত এবং এআইচালিত নতুন ফিচার যোগ হবে।’
হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিংয়ের জন্য এনভিডিয়ার ‘কনফিডেন্সিয়াল কম্পিউটিং’ ব্যবহারের মাধ্যমে অ্যাপের ভেতরে এআই সুবিধা ও একইসঙ্গে ব্যবহারকারীর তথ্যের পূর্ণ প্রাইভেসিও দেবে।
সাধারণত ডেটা এক সার্ভার থেকে অন্য সার্ভারে পাঠানোর সময় সুরক্ষিত থাকলেও ডেটা যখন প্রসেস হচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তেও তা সুরক্ষিত রাখবে এ নতুন প্রযুক্তি।
এক ব্লগ পোস্টে এনভিডিয়া বলেছে, এ প্রযুক্তি মেটা বা অন্যান্য থার্ড-পার্টি এআই নির্মাতাদের তাদের নিজস্ব উদ্ভাবন বা মেধাস্বত্ব সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।
মেটাই প্রথম কোম্পানি যে এনভিডিয়ার ‘গ্রেস সিপিইউ’কে অন্য কোনো জিপিইউ-এর সঙ্গে যোগ না করে স্বতন্ত্র বা ‘স্ট্যান্ডঅ্যালোন’ হিসেবে ব্যবহার করবে।
এসব সিপিইউ আলাদাভাবে চালানো হলে সেগুলো ‘ইনফারেন্স’ বা এআইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং ‘এজেন্টিক ওয়ার্কলোড’ বা স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের কাজ পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে কার্যকর।
এছাড়াও, নিজেদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে এনভিডিয়ার ‘স্পেকট্রাম-এক্স ইথারনেট’ সুইচ ব্যবহার করবে মেটা।
বছরের শুরুতে মেটা ঘোষণা করেছিল, ২০২৬ সালে এআইয়ের পেছনে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি ডলার খরচ করবে। স্বাভাবিকভাবেই এ বাজেটের বড় অংশ এনভিডিয়ার পকেটে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ চুক্তির অংক সম্ভবত ‘কয়েক হাজার কোটি ডলারে’ গিয়ে ঠেকবে, যা দুই কোম্পানির মধ্যকার দীর্ঘদিনের পার্টনারশিপকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ৩০টি ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা করছে মেটা, যার মধ্যে ২৬টিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এ পুরো মহাপরিকল্পনার পেছনে প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কোম্পানিটি।