মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সচল রাখা নিয়ে শান্তি আলোচনা বর্তমানে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিরাপত্তা ঝুঁকি চরমভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাবে চলতি বছর নাগাদ বিশ্বব্যাপী দৈনিক তেলের সরবরাহ ৩৯ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে আইইএ-এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার ১০ সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হলেও হরমুজ প্রণালির সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের মজুদ রেকর্ড গতিতে হ্রাস পাচ্ছে। যদিও চলতি বছরে তেলের চাহিদা দৈনিক প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে।
আইইএ তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, তেলের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসায় অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটতে পারে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি পরিবহন পথটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস রপ্তানি করা হয়। ফলে এই পথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া মানেই বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর একটি বড় আঘাত।
বর্তমানে এই সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান না আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তেল আমদানিকারক দেশগুলোকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।