স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ না: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের হাতে দেশ নিরাপদ না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন। শনিবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী সভায় এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেছেন।
ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকাল রংপুরে আমাদের তরুণ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের দল বিএনপি যদি নির্বাচিত হতে পারে, তাহলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ যাদের আছে, সুদসহ মাফ করে দেবেন। আরেকটা কথা বলেছেন, আমার মায়েদের জন্য খুব ভালো একটা খবর, প্রায় সবাই এনজিওর কাছে টাকা ধান নেন। এনজিওর যত টাকা আছে, এটার দায় সরকার নিয়ে নেবে, আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি।’
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের নমুনা দেখিয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই রকম একটা কার্ড আমার মায়েদেরকে দেওয়া হবে। এটা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। এটা দিয়ে বাড়ির প্রধান নারী ন্যায্য মূল্যে চাল, ডাল, তেল, লবণ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবেন; হাসপাতালে গিয়ে বাচ্চা বা নিজের চিকিৎসায় সুবিধা পাবেন এবং স্কুলে বাচ্চার লেখাপড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।’
কৃষক ভাইয়েরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয় বলে ফখরুল জানান, ‘কৃষক কার্ড দেওয়া হবে কৃষককে। তিনি ন্যায্য মূল্যে সার পাবেন, বীজ পাবেন, আর সেচের পানি পাবেন। আমাদের শিক্ষিত বেকার ভাই-বোনদের জন্য তারেক রহমান ১৮ মাসে এক কোটি কাজের ব্যবস্থা করবেন।’
‘এগুলো শুধু কথার কথা না। তিনি এগুলো করবেন, কারণ আমরা অতীতে এগুলো করে দেখিয়েছি। আর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করবেন। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মধ্যে ভাতৃত্ব সৃষ্টি করবেন। অসাম্প্রদায়িক একটা রাজনীতি নিয়ে আসবেন। সাম্প্রদায়িকতা—হিন্দু-মুসলমানের ভেদাভেদ আমরা একেবারে বন্ধ করে দেবো। আমাদের এখানে সবাই যে যার ধর্ম পালন করবে, যে যার কর্ম করবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্রটা সবার,’ উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সকলের কাছে অনুরোধ জানাবো যে, আপনারা এইবার ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদেরকে কাজ করার সুযোগ দেন। দেশটাকে আমরা উন্নত করার চেষ্টা করি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিছু কিছু লোক ব্যাংকের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য, বাড়ি-ঘর তৈরি করেছে। আমাদের ব্যাংগুলো শূন্য হয়ে গেছে। আমি বলতাম ফোকলা হয়ে গেছে। আজকে আবার সেটাকে ঠিক করতে হবে।’
সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন কোনও ঝগড়াঝাঁটি না। সঠিক লোকটাকে ভোট দিয়ে, সঠিক লোককে পার্লামেন্টে নিয়ে এসে ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আমরা সুন্দর একটা বাংলাদেশ, ভালোবাসার একটা বাংলাদেশ, প্রেমের একটা বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আরেকটা দল ভোট চাচ্ছে। মার্কা হচ্ছে দাঁড়িপাল্লা। রাজনীতি যে কেউ করবে, সবাই আসবে, সবাই ভোট চাইবে। আমি বিশ্বাসটা করব কাকে? ১৯৭১ সালে যখন আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করি, এই দলটা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন করে নাই। অনেক লোককে মেরে ফেলেছে। লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়ে গেছে। আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছে। সেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে যারা ছিল, ওরা—ওই দলটা এখন এসে কিন্তু একবারের জন্য মাফ চায় নাই। ক্ষমা চায় নাই যে, আমি ওই সময় ভুল করেছিলাম। এই ভুলগুলো ক্ষমা করে দিয়ে ভাই আমাকে রাজনীতি করার সুযোগ দাও, সেটা করে নাই। যারা এটা করে নাই, যারা আমার স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তার হাতে কি আমি দেশের দায়িত্ব তুলে দিতে পারি?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সমস্ত মা-বোনরা এখানে আছেন, ভাইয়েরা আছেন, তাদেরকে অনুরোধ করব, দেশের কল্যাণের জন্য আপনারা সঠিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করবেন।’
কাউকে বিকাশ নম্বর না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এগুলো সমস্ত হচ্ছে ধান্দাবাজি। এগুলো করবেন না। আর শেষ কথা যেটা বলছে যে, ওদেরকে ভোট দিলে নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে, বেহেশতে যাওয়া যাবে। এটা কি আমাদের ধর্মে বলে? আমরা ওই পথে যাব না।’
এ সময় তিনি মুসলমানদের আল্লাহ-রাসূলের দেখানো পথে চলার আহ্বান জানান।


















