স্প্যানিশ সুপার কাপে বার্সার ১৬তম শিরোপা, চাকরি হারানোর আতঙ্ক জাভির

এল ক্লাসিকোর এক মহারণের সাক্ষী হলো জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামের হাজার হাজার দর্শক। রোমাঞ্চকর সে লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা নিজেদের ঘরেই রাখলো বার্সেলোনা।
রোববার রাতে রিয়ালকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে তারা। এরমধ্যে দিয়ে রেকর্ড ১৬তম বারের মতো এই শিরোপা জিতে উৎসবে মাতে কাতালানরা।
ফাইনালে বার্সেলোনার হয়ে জোড়া গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। অন্য গোলটি করেন রবার্ট লেভানডোভস্কি। ম্যাচের শেষ দিকে ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ং লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লেও লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয় হানসি ফ্লিকের দল। রিয়ালের হয়ে গোল দুটি করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও গনজালো গার্সিয়া।
কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটে রাফিনিয়ার নিখুঁত শটে লিড নেয় বার্সা। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টিকেনি। ভিনিসিয়াস জুনিয়র চমৎকার এক গোলে রিয়ালকে সমতায় ফেরান।
বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে খেলা আরও জমে ওঠে। পেদ্রির পাস থেকে গোল করে বার্সাকে ফের এগিয়ে দেন লেভানডোভস্কি। কিন্তু প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে গনজালো গার্সিয়া গোল করলে ২-২ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ৭৩ মিনিটে। রাফিনিয়ার একটি জোরালো শট রিয়াল রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রাউল আসেন্সিওর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার। গত জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি কোচ হানসি ফ্লিকের চতুর্থ শিরোপা। অন্যদিকে, রিয়াল কোচ হিসেবে জাভি আলোনসোর প্রথম ট্রফি জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। জাভির চাকরি নিয়েও টানাপোড়েন চলছিল । সে আগুনে ঘি ঢাললো এই পরাজয়।
পরাজয়ের পর রিয়াল কোচ আলোনসো মোভিস্টারকে বলেন, ‘যেভাবেই হারুন না কেন, সেটি কষ্টের। তবে ম্যাচটি ছিল খুব সমানে-সমান। আমরা সমতায় ফেরার খুব কাছে ছিলাম, শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি। আমি বার্সাকে অভিনন্দন জানাই।’
বার্সা স্ট্রাইকার লেভানডোভস্কি বলেন, ‘আমরা খুব খুশি। মাদ্রিদের সঙ্গে খেলা সবসময়ই বড় ম্যাচ। আমরা দারুণ খেলেছি এবং শিরোপা জিতেছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।’
হাঁটুর চোট কাটিয়ে কিলিয়ান এমবাপে শেষ ১৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও ম্যাচের ফলে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি। যদিও তার ওপর ফাউল করেই সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বার্সার ডাচ মিডফিল্ডার ডি ইয়ং। শেষ দিকে ১০ জনের বার্সার বিপক্ষে চাপ সৃষ্টি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি রিয়াল।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ জেতা বার্সেলোনা বর্তমানে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলেও শীর্ষে রয়েছে। স্প্যানিশ সুপার কাপের এই সাফল্য তাদের ঘরোয়া লিগের শিরোপা দৌড়ে আরও আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


















