চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা জাকারিয়া হাসান জিলহানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে মারাত্মক আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীর এতটাই ক্ষতবিক্ষত হয়েছে যে সেলাই দেওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং স্থানীয় মৃত হারুনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৬ মে) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পুকুরপাড়ে জাকারিয়াকে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষরা। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে ফেলে রেখে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। জাকারিয়ার এক আত্মীয় জানান, বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, "রাত ৯টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এমন গভীর ক্ষত ছিল যে সেলাই দেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তার পায়ের রগ কাটা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
আক্রমণের কারণ সম্পর্কে আত্মগোপনে থাকা স্থানীয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আবু তাহের দাবি করেন, "জাকারিয়া এলাকায় দখল ও পাহাড় কাটাসহ নানা বিষয়ে ফেসবুকে সরব ছিলেন। এছাড়া দলীয় পোস্টও দিতেন তিনি। সেই ক্ষোভ থেকেই মূলত তার ওপর এই নৃশংস হামলা করা হয়েছে।"
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়েই পুলিশ তদন্তে নেমেছে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।