সিরিয়ার একটি ফৌজদারি আদালত দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদকে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের ২০ মাস পর, দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন বিচার ব্যবস্থার অধীনে এটিই প্রথম কোনো ঐতিহাসিক রায়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণের মুখে বাশার আল-আসাদ তার পরিবারসহ রাশিয়ার মস্কোতে চলে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ফলে দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত তার অনুপস্থিতিতেই এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
বিচারক ফখরুদ্দিন আল-আরিয়ান রায়ে উল্লেখ করেন, বাশার আল-আসাদ রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে এই অপরাধগুলো ঘটিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ১ জনের বেশি মানুষকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হত্যা, নির্মম নির্যাতন এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখার মতো গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
একই মামলার শুনানিতে বাশার আল-আসাদের পাশাপাশি তার পরিবারের আরও দুজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাশার আল-আসাদের ছোট ভাই এবং সাবেক সামরিক কমান্ডার মাহের আল-আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড নে আদালত।
এছাড়াও বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই এবং ২০১১ সালে সিরীয় বিপ্লবের সূতিকাগার 'দারা' প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নাজিবকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
২০১১ সালে দারা-তে স্কুল দেওয়ালে সরকারবিরোধী চিকা মারার অপরাধে শিশুদের ওপর নির্যাতন ও শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানোর নির্দেশ দাতা হিসেবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
দামেস্কে অবস্থিত প্যালেস অব জাস্টিস-এ আয়োজিত এই রায় ঘোষণার সময় সিরিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল, ন্যাশনাল কমিশন ফর ট্রানজিশনাল জাস্টিসের সদস্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, ২০১১ থেকে শুরু হওয়া ১৪ বছরের এই গৃহযুদ্ধে আসাদ সরকারের দমনপীড়নে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৫ লাখ মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ২০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই রায়কে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে। তবে বাশার আল-আসাদ ও তার ভাই বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করায় এই দণ্ড কার্যকর করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে রাশিয়ার কাছে তাদের হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে।