২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল সামরিক বাজেট পাস করেছে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ। ইরান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র আপত্তির মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ।
বুধবার ২১৬-২১২ ভোটের ব্যবধানে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট’ নামের এই বিল পাস হয়। ভোটাভুটি মূলত দলীয় মেরুকরণের ভিত্তিতেই হয়েছে। তবে এর বাইরে গিয়ে ছয়জন ডেমোক্র্যাট বিলটির পক্ষে এবং সাতজন রিপাবলিকান বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, এ বিল নিয়ে বিতর্কের আরেকটি বড় কারণ হল ২১৯ নম্বর ধারা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন, গবেষণা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির কারণে মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ যখন ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা কমানোর দাবি তুলেছেন, তখনই এই বিলটি পাস হলো।
গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তাও ছিল এই বিল নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ৯০০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটকে ১.৫ ট্রিলিয়নে উন্নীত করার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তারই প্রতিফলন হয়েছে এই বিলে।
রিপাবলিকানদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সরঞ্জাম ক্রয়, সেনাদের বেতন ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধিসহ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ ‘অত্যন্ত জরুরি’।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এই বিশাল ব্যয়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানরা যখন দেশের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে বাজেট কাটছাঁট করছেন, তখন সামরিক খাতে এই বিপুল ব্যয় ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’।
গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটিক মাইনরিটি লিডার চাক শুমার এই বিলটিকে সরকারের ইরান যুদ্ধের একটি ‘অনুমতিপত্র’ আখ্যায়িত করেন।
শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নন, হোয়াইট হাউসের সমালোচক ও ইরান যুদ্ধের বিরোধিতাকারী রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসিও বিলটির কড়া সমালোচনা করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজকের এই চূড়ান্ত ভোট আমাদের সামরিক প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইনকে মর্মান্তিকভাবে ইসরায়েলের সাথে যুক্ত করেছে। আশা করি বিলটির এই সংস্করণ সেনেটে আটকে যাবে, কারণ এর ২১৯ নম্বর ধারাটি আমাদের সার্বভৌমত্বের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।’