সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মুক্তি চায় তাঁর পরিবার

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। তাঁদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় তাঁকে টার্গেট করে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবার ও স্বজনরা।
আনিস আলমগীরের সহধর্মিণী শাহনাজ চৌধুরী বলেন, মত প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে কারাবন্দি হতে হয়নি—এমন বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট এবং টেলিভিশন টক শোতে বক্তব্য দেওয়ার জেরেই আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শুধু মত প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।”
গত ১৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আনিস আলমগীরকে আটক করে। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তিনি ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তাঁর আইনজীবী আসলাম মিয়া দাবি করেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পড়ে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মামলার আগে তাঁকে কোন ভিত্তিতে আটক করা হয়েছিল।
এদিকে গত ১৫ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আরেকটি মামলা করে। কমিশনের এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, তাঁর ঘোষিত আয়ের তুলনায় প্রায় তিন কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আইনজীবীর দাবি, সম্প্রতি একটি সম্পত্তি বিক্রির অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হওয়ায় তা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কারাগারে থাকায় তিনি সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আনিস আলমগীর দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত এবং ইরাক যুদ্ধ কাভার করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি আলোচনায় ছিলেন। তাঁর গ্রেপ্তারকে ঘিরে সাংবাদিক মহল ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

















