রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রেসারমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পীরগাছা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "সরকারি অফিসে কোনো ফাইল যেন অযথা আটকে না থাকে। বরং কোনো অফিস কত দ্রুত সেবা দিতে পারছে, সেই ইতিবাচক প্রতিযোগিতাই হওয়া উচিত।"
মতবিনিময় সভায় আখতার হোসেন সরকারি কর্মকর্তাদের আরও সহিষ্ণু ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ অনেক সময় সরকারি অফিসে এসে আড়ষ্টতায় ভোগেন। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে আসা কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্বই হলো সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা। তিনি ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে সিরিয়াল বজায় রাখা এবং জরুরি বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেন। বিশেষ করে থানা, ভূমি অফিস ও স্বাস্থ্য বিভাগকে জনহয়রানি বন্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, পীরগাছা ও কাউনিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ তিস্তা নদীকে ঘিরে। তিস্তার পানি বণ্টন, নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি। দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এই নবনির্বাচিত এমপি।
জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। নিজেকে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সাহসিকতার সাথে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি পেশাদার ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলার আশ্বাস দেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাকের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা জামায়াতের আমির বজলুর রশিদ মুকুল এবং থানার ওসিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় শেষে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের মাঝে রমজানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন সংসদ সদস্য। এরপর তিনি সদ্যপ্রয়াত জামায়াত নেতা ফারুক ইকবালের কবর জিয়ারত এবং চৌধুরাণী-ফতেপুরঘাট সড়ক উদ্বোধন করেন। সবশেষে পীরগাছা সরকারি কলেজ মাঠে এক গণসংবর্ধনা ও গণইফতারে অংশগ্রহণ করেন তিনি।