ফিলিস্তিনের অধিকৃত জেরুজালেমে এক ফরাসি ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে এক ইসরাইলি সেটেলার।
গত শুক্রবার (১ মে) মাউন্ট জায়ন এলাকায় ঘটা এই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চাপের মুখে ইসরাইলি পুলিশ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ৪৮ বছর বয়সী ওই সন্ন্যাসিনী চার্চ অব দ্য লাস্ট সাপারের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এসময় এক ইসরাইলি সেটেলার পেছন থেকে দৌড়ে এসে তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সন্ন্যাসিনী পাথরের রাস্তার ওপর পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। বর্বরতা সেখানেই শেষ হয়নি; হামলাকারী কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে পুনরায় ফিরে আসে এবং মাটিতে পড়ে থাকা সন্ন্যাসিনীকে লাথি মারে। পরে এক পথচারীর বাধায় হামলাকারী নিবৃত্ত হয়।
আক্রান্ত সন্ন্যাসিনী জেরুজালেমের বিখ্যাত ‘ফ্রেঞ্চ স্কুল অব বাইব্লিকাল অ্যান্ড আর্কিওলজিকাল রিসার্চ’-এর একজন গবেষক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মুখে আঁচড় ও মাথায় আঘাত লাগলেও তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
ফ্রান্স এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। ফরাসি দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, অপরাধীকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় এই ঘটনাকে বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং খ্রিস্টানদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বৈরিতার অংশ।
তীব্র সমালোচনার মুখে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে একে ধর্ম-প্ররোচিত বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ (Hate Crime) হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইসরাইলের বর্তমান ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী সরকারের আমলে খ্রিস্টানদের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই খ্রিস্টানদের হয়রানির ৩১টি ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। গত মাসেই এক ইসরাইলি সেনার যিশু খ্রিস্টের মূর্তি ভাঙার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর খোদ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।