সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন নবনির্বাচিতরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন নবনির্বাচিতরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
প্রথমে নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। এরপর ক্রমানুসারে অন্য দল ও স্বতন্ত্র সাংসদরাও শপথ নেওয়ার কথা।
দেশের আইনসভার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনের শপথ নেন আগের সংসদের স্পিকারের কাছ থেকে। তবে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অনুপস্থিত আর হত্যা মামলায় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় নতুন এমপিরা এবার শপথ নেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের সদস্য হিসেবে ২৯৭ জনের শপথ নেয়ার কথা রয়েছে এদিন। হবু প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তার দল এবং জোট থেকে নির্বাচিত সদস্যরা প্রথম দফায় শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের ডান পাশে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ আর বাম পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সঙ্গে তারা বলেন, ‘সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন–অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং সংসদ–সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।’
এরপর সবাই শপথপত্রে নিজেদের আসনের নাম লিখে সই করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।
পরে বেলা সাড়ে ১১টার পর সংসদীয় দলের সভাকক্ষে বৈঠকে বসেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। ওই বৈঠকে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা জাতীয় সংসদের দকিষণ প্লাজায় নত্নু মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে।
একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর–৩ আসনের নির্বাচন আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। সে কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হয় ২৯৯ আসনে। তার মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় পায় বিএনপি। ফলে সংবিধান সংশোধন করার জন্য প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের থাকছে।

















