সংসদে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে আইনজীবীর চিঠি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন্ন উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ প্রদান থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর একটি আইনি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার (২ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির সরকারি ডাকযোগে এই চিঠিটি পাঠান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করে বিবৃতিও দেননি।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির তার চিঠিতে দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও স্পিরিট সমুন্নত রাখার স্বার্থে রাষ্ট্রপতিকে সংসদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া সমীচীন হবে না। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তিনি প্রস্তাব করেছেন, কোনো একজন সংসদ সদস্যকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচন করে তার মাধ্যমেই সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও উদ্বোধনী কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। অন্যথায়, প্রধানমন্ত্রী যেন তার সুবিধামতো এ বিষয়ে সাংবিধানিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই অনুরোধ কেবল কোনো ব্যক্তির একান্ত চাওয়া নয়, বরং এটি জুলাই বিপ্লবের অংশীদার সাধারণ জনগণের প্রাণের আকাঙ্ক্ষা। বিপ্লবের মূল চেতনা অক্ষুণ্ন রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে আইনজীবী তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান থাকলেও এই চিঠির ফলে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

















