
সড়কে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার মিছিল থামাতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি বাড়াতে জাতীয় সংসদে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রস্তাব তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
শনিবার (২৫ জুলাই) নগরীর জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ‘স্ট্রেনদেনিং রোড সেফটি অ্যাক্ট অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় পলিসি ইনফ্লুয়েন্স গ্রুপ (পিআইজি) আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, দেশের সড়ক দুর্ঘটনার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং আইনের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবহন মালিক, চালক, যাত্রী ও পথচারী সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়কে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা সময় (গোল্ডেন আওয়ার) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে দ্রুত উদ্ধার ও হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
বিশ্বের উন্নত ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দুবাই রোড সেফটি অথরিটির মতো আমাদের দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও শক্তিশালী, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা কেবল পরিবহন খাতের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় অগ্রগতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।
বক্তব্যে হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি সড়কে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা বন্ধের আহ্বান জানান। এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা জোরদার করার তাগিদ দেন।
ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং পিআইজি’র সদস্য সচিব আবু মোশারফ রাসেলের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দর কুমার লাহড়ী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন ও ক্যাব-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।